পতনশ্রুতি
আমার নাম কেউ রাখেনি। আমি কোনও ঋতুর সন্তান নই, আমি জন্মেছিলাম আলোহীন এক মধ্যরাতে—যেখানে গন্ধই ছিল একমাত্র ভাষা। আমি ফুঁটে উঠিনি কারও ইচ্ছায়, আমার জন্ম এক অসমাপ্ত প্রার্থনার ভুল বানান। আমাকে পাতায় গাঁথা হয়নি, আমার শেকড় বেছে নিয়েছিল সমাধির মত নীরব এক শূন্যতা। প্রথম নিঃশ্বাসে পাখির গান জাগেনি— এক গৃহহীন বাতাস বলেছিল, “এই ফুল বেশিদিন টিকবে না…” আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আমার অপব্যাখ্যাযাপন। আমি ডাল থেকে পেলাম ভার, সূর্য থেকে পেলাম সন্দেহ, আর বাগান থেকে পেলাম— “কি সুন্দর!” -কথাটার অনুপস্থিতি। আমি ফুল নই, আমি এক বিশুদ্ধ অভিমান— যাকে সাজানো যায় না, যাকে পূজার থালায় রেখে দিলে পুরোহিতও নিশ্চুপ হয়ে যায়। আমি নিজেকে ছিঁড়ে ফেলেছিলাম— ঝরিনি কখনো; কারণ যে নিজে পড়ে, সে ভেঙে পড়ে না, সে ইতিহাস লেখে। আমার ঝরা মানে ক্ষয় নয়— আমার ঝরা মানে এক অজানা দেবতার দরজায় নিজের গন্ধ রেখে আসা। আমি নষ্ট হইনি, আমি চোখ থেকে সরে গেছি— কারণ যাদের গন্ধ থাকে, তাদের উপস্থিতি লাগে না।
Poetry Books 50% Off
Bestselling collections from top poets
