সে, যে আলোয় গাঁথে ঘর
সে ভোরের আগে উঠে, শীতল হাতজোড়ায় জাগায় আগুন, দুধ-ভাতে মেখে রাখে একরাশ দুঃশ্চিন্তার ধুনু রাগিণী। তার ছায়া পড়ে দেয়ালে, কিন্তু নামে না কোথাও রঙিন, শুধু নিশ্বাসে গাঁথে সে সংসারের সাত সুরের বীণাবাণী। তাকে কেউ দেখে না—কিন্তু সে জানে কার কোন ওষুধ লাগে, কে কখন ঘরে ফেরে, কার ভাত জলে মেশে, কার জল শুকায়। তার চোখে চাঁদ ওঠে না, তবু সে জানে কোন রাত কেমন ভাগে, তাকে ছাড়া যেন ঘর বলে কিছু নেই—শুধুই শূন্যতায় ঢেকে যায়। সে তো পত্রিকার নায়িকা নয়, বক্তৃতার মঞ্চে তার নাম নেই, তবু সে এক নায়িকা, যার গল্প বেঁচে থাকে বালিশের ভাঁজে। এক মগ কফির গন্ধে তার কান্না লুকানো থাকে চুপিচুপি, বাচ্চার দুধে, স্বামীর হেঁশেলে, মায়ের চায়ে তারই ত্যাগ বাজে। সে বলে না কখনো—“আমাকে চেনো,” বা “ধন্যবাদ দাও,” সে শুধু জানে, ভালোবাসা মানে দায়িত্ব, নীরব, অথচ দীপ্তিময়। তার পায়ের শব্দেই জেগে ওঠে এক একটি দেয়ালের আস্ত স্মারক, সে গৃহিণী নয়, সে ঘরের আত্মা—নির্মম বাস্তবের মায়াবতী সমানময়।
Poetry Books 50% Off
Bestselling collections from top poets
